জসীমউদ্দীন ইতি
পবিত্র মাহে রমজান আমাদের ত্যাগের পাশাপাশি ত্যাগের মহিমায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দেয়। যান্ত্রিক নগরায়ন আর জীবিকার তাগিদে আমরা আজ নিজ নিজ শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাজধানীর ইট-পাথরের খাঁচায় বন্দি। কিন্তু গত কাল ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘হরিপুর উপজেলাবাসী’-দের ইফতার ও দোয়া মাহফিল প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ভৌগোলিক দূরত্ব বাড়লেও হৃদয়ের টান কখনো ফুরায় না।
রাজধানীর ব্যস্ততম জীবনে নিজের এলাকার মানুষের সাথে এক টেবিলে বসে ইফতার করা কেবল একটি প্রথাগত আয়োজন নয়; বরং এটি একটি শক্তিশালী সামাজিক সেতুবন্ধন। হরিপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, নবীন শিক্ষার্থী এবং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের এই সমাগম এক অনন্য ভ্রাতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। যেখানে নেই কোনো পদমর্যাদার অহংকার, আছে শুধু 'হরিপুরের সন্তান' হিসেবে একাত্ম হওয়ার তৃপ্তি।
এই ধরনের আয়োজনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা হলো পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার সুযোগ তৈরি হওয়া। ঢাকায় বসবাসরত হরিপুরের সম্পদশালী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি এই মিলনমেলার মাধ্যমে নিজ এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেন, তবেই এ ধরনের আয়োজন পূর্ণতা পায়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য জ্যেষ্ঠদের দিকনির্দেশনা এবং পেশাগত নেটওয়ার্কিংয়ের এক বিশাল ক্ষেত্র হতে পারে এই প্ল্যাটফর্ম।
আমরা বিশ্বাস করি, কেবল ইফতার মাহফিলে সীমাবদ্ধ না থেকে ঢাকাস্থ হরিপুরবাসী একটি শক্তিশালী কমিউনিটি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। নিজ এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে এই ঐক্যবদ্ধ শক্তি আগামীতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
পরিশেষে, এই সফল আয়োজনের পেছনের কারিগরদের জানাই সাধুবাদ। ঢাকার বুকে যেন এক টুকরো হরিপুর জীবন্ত হয়ে উঠেছিল। এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ মিলনমেলা বারবার ফিরে আসুক এবং আমাদের শেকড়ের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক—এটাই হোক আজকের প্রার্থনা।