জসীমউদ্দীন ইতি, ঠাকুরগাঁও ।
ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রকৃতিতে উঁকি দিচ্ছে আমের মুকুল। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তার আগেই জেলার বিভিন্ন স্থানে আমগাছে সোনালি মুকুলের সমারোহ দেখা দিয়েছে। আগাম এই মুকুল দেখে ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন স্থানীয় বাগান মালিক ও চাষিরা।
সদর উপজেলাসহ রাণীশংকৈল, পীরগঞ্জ, বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, দেশি জাতের পাশাপাশি সূর্যপুরী ও আম্রপালি আমগাছগুলো এরই মধ্যে মুকুলে ভরে উঠেছে। হালকা শীত আর মিষ্টি রোদের অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই মুকুল আসতে শুরু করেছে। বালিয়াডাঙ্গী ও হরিপুরের বাগানগুলোতে এখন থেকেই মৌ মৌ ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় আমচাষিরা জানান, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া আমের অনুকূলে রয়েছে। তবে হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে যাওয়া, ঘন কুয়াশা কিংবা কালবৈশাখী ঝড় নিয়ে কিছুটা উদ্বেগও রয়েছে তাদের মাঝে। তারা জানান, যদি বড় কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটে, তবে এবার জেলায় আমের বাম্পার ফলন হবে।
এই বিষয়ে ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, জেলায় এবার শীতের রেশ কাটতে না কাটতেই আগাম আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। মূলত অনুকূল আবহাওয়া এবং সঠিক পরিচর্যার কারণেই গাছগুলো মুকুলে ভরে উঠেছে। আমরা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি যাতে এই সময়ে কুয়াশা বা হপার পোকার আক্রমণে মুকুলের ক্ষতি না হয়। যদি বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটে, তবে এবার ঠাকুরগাঁওয়ে আমের বাম্পার ফলন হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিটি উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে গিয়ে চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন যাতে মুকুল থেকে গুটি হওয়া পর্যন্ত কোনো সমস্যা না হয়।
শীত বিদায়ের আগেই আমের এই মুকুল ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। সঠিক সময়ে পরিচর্যা ও অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এ বছর জেলায় আমের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।