রাসেল আহমেদ,খুলনা
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে অনেক রোগীকেই বাইরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। এতে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি ভোগান্তিতে পড়ছেন বিশেষ করে নিম্ন আয়ের রোগীরা। একই সঙ্গে হাসপাতালের খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।
তেরখাদা উপজেলার বাসিন্দা দিদার শেখ তার ৭৫ বছর বয়সী অসুস্থ বাবাকে চিকিৎসার জন্য খুমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, কর্তব্যরত চিকিৎসক কয়েকটি পরীক্ষা করাতে বলেন। তবে সেগুলো হাসপাতালের ভেতরে না করিয়ে একটি কাগজে বেসরকারি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম ও প্রতিনিধির ফোন নম্বর লিখে দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে সেখানেই পরীক্ষা করাতে হয়েছে।
বটিয়াঘাটা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী দীপংকর দাস জানান, তিনি দুই দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। চিকিৎসকের দেওয়া পরীক্ষাগুলো বাইরে করাতে হয়েছে। তিনি বলেন, সকালে হাসপাতাল থেকে রুটি ও কলা দেওয়া হয়। তবে দুপুর ও রাতে যে মাছ বা মাংস দেওয়া হয়, তার পরিমাণ খুবই কম। এতে অনেক সময় পেট ভরে না।
খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা মিনা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কোমর ও পায়ের ব্যথায় ভুগছেন। চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ খাওয়ার পরও সমস্যা না কমায় তিন মাস পর আবার হাসপাতালে এসেছেন। এবার তাকে কয়েকটি পরীক্ষা করাতে বলা হয়েছে। তবে হাসপাতালের ভেতরে পরীক্ষা করাতে চাইলে চিকিৎসকের সহকারী বাইরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, প্যাথলজি বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব বা পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের বাইরে পাঠানো হয়। এ সুযোগে হাসপাতালকেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে রোগীদের খাবার নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ আছে, প্রতিটি রোগীর খাবারের জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ থাকলেও সব সময় মানসম্মত খাবার দেওয়া হয় না এবং অনেক সময় খাবারের পরিমাণও কম থাকে।
তবে হাসপাতালের রান্নাঘরের দায়িত্বে থাকা হাবিবুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, খাবার কম দেওয়া বা বাইরে বিক্রি করার কোনো ঘটনা ঘটে না। অনেক সময় বেঁচে যাওয়া খাবার হাসপাতালের কর্মচারীরা নিয়ে যান।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম বলেন, খাবার সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। হাসপাতাল এলাকায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তারা অনেক সময় পালিয়ে যায় বলেও জানান তিনি।