রাসেল আহমেদ,খুলনা
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ১০ নম্বর ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) খালিশপুর হাজী শরিয়ত উল্লাহ বিদ্যাপীঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, সরকারের মাত্র ২৩ দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নারীদের স্বাবলম্বী করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার বাস্তব রূপ হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। আগামী জুনে বাজেট ঘোষণার পর এ কর্মসূচি আরও বিস্তৃত আকারে সারা দেশে বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে ঢাকার বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন, যা অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি স্থানে পরীক্ষামূলকভাবে এ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত—এই তিন শ্রেণির নারীদের ৪৯ ধরনের তথ্য-উপাত্ত পিএমটি স্কোরিং পদ্ধতিতে প্রযুক্তির সহায়তায় বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছে। এর আওতায় সারা দেশে প্রথম দিনে ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন উপকারভোগী ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রকিবুল ইসলাম বলেন, খুলনার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কলকারখানা ও মৃতপ্রায় শিল্পনগরীকে পুনরুজ্জীবিত করে খুলনাকে আধুনিক শিল্পনগরীতে পরিণত করা হবে। একই সঙ্গে মাদক, সন্ত্রাস ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি ভবিষ্যতে কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড এবং ইমাম ও পুরোহিতদের জন্য সহায়তা কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হবে। ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই কাজ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক, কেএমপির পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার, কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলী হোসেন জামান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায়।
এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উপকারভোগীসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
উল্লেখ্য, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম পর্যায়ে ৫ হাজার ২৭৫ জন উপকারভোগীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে মঙ্গলবার ৪ হাজার ১৫৮ জনের মাঝে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি উপকারভোগীদের মাঝেও কার্ড বিতরণ করা হবে।