বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হরিপুরের উচ্চশিক্ষিত যুবকের মৃত্যু: মাস ছয়েক আগে মুঠোফোনে সেরেছিলেন বিয়ে

জসীমউদ্দীন ইতি, ঠাকুরগাঁও

 

স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষা শেষে পরিবারের হাল ধরবেন, ভাই-বোনদের মুখে হাসি ফোটাবেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন এখন বুকফাটা আর্তনাদে পরিণত হয়েছে। মালয়েশিয়ায় কর্মস্থলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট (কারেন্ট শট) হয়ে আতিকুর রহমান (৩০) নামে এক বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত আতিকুর ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার ৩নং বকুয়া ইউনিয়নের বহরমপুর (তাঁতি হাট) গ্রামের মো. হানিফের বড় ছেলে।

ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী ছিলেন। তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পড়ালেখা চালিয়ে গিয়ে মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে যুতসই কর্মসংস্থান না হওয়ায় এবং পরিবারের অভাব দূর করে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে প্রায় আড়াই বছর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে আতিকুর ছিলেন সবার বড়। তার উপার্জনেই চলতো পুরো পরিবার এবং ছোট ভাই-বোনদের পড়ালেখার খরচ।

আতিকুর রহমানের জীবনের এক করুণ অধ্যায় হলো তার বিয়ে। জানা গেছে, প্রবাসে থাকা অবস্থাতেই প্রায় ৬ মাস আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পারিবারিকভাবে তিনি বিয়ে করেন। স্বপ্ন ছিল কিছু টাকা জমিয়ে দেশে ফিরে ঘটা করে অনুষ্ঠান করবেন এবং নতুন জীবনের সূচনা করবেন। কিন্তু বিয়ের মাত্র ছয় মাসের মাথায় প্রিয়তমা স্ত্রীর মুখ দেখার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তার এই অকাল মৃত্যুতে নববধূর সাজ না মুছতেই বিধবা হওয়ার শোক স্তব্ধ করে দিয়েছে পুরো পরিবারকে।

নিহতের ছোট ভাই মো. আনোয়ার হোসেন জানান, সোমবার (৯ মার্চ) মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় অনুযায়ী কর্মস্থলে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন আতিকুর। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করার আগেই ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার ভাই আমাদের পরিবারের মেরুদণ্ড ছিলেন। আমাদের পড়ালেখা আর সংসারের সব দায়িত্ব তিনি একাই টেনেছেন। এখন আমরা সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেলাম।”

এদিকে আতিকুরের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় পৌঁছালে বহরমপুর গ্রামে নেমে আসে শোকের কালো ছায়া। প্রতিবেশী ও স্বজনরা ভিড় করছেন তাদের বাড়িতে। উচ্চশিক্ষিত এবং সদালাপী আতিকুরের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী। শোকাতুর বাবা-মা এখন বড় ছেলেকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন। তাদের গগনবিদারী আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে চারপাশের বাতাস।

নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং শেষবারের মতো ছেলের মুখটি দেখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন শোকসন্তপ্ত পরিবার ও এলাকাবাসী।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ