ফেনীতে পরিবেশ মন্ত্রীর ঘোষণা: দেশে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করা হবে

সংবাদ প্রতিবেদন : ডেস্ক, ফেনী

জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে পরিবেশের সার্বিক ভারসাম্য রক্ষায় দেশব্যাপী ৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এক বিশাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফেনী জেলায় চার দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক শেষে ৮ মার্চ, ২০২৬ তারিখে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে তিনি ফেনী সার্কিট হাউসে পৌঁছালে তাকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

​পরিবেশ দূষণকে জাতীয় জনজীবনের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, দূষণের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে দেশের মানুষের গড় আয়ু প্রায় দুই থেকে তিন বছর কমে যাচ্ছে। বায়ু, শব্দ ও নদীদূষণ রোধের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন করাকে বর্তমান সরকার জাতিগত দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করছে। অতীতে জলবায়ু তহবিলের আওতায় নেওয়া বিভিন্ন প্রকল্পে যারা অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়ম করেছেন, তাদের প্রত্যেককে কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। বিশেষ করে রাজা ঝির দিঘির পাড়ে ১০ কোটি টাকার প্রকল্পের মতো যেসব ক্ষেত্রে বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও কাঠামোগত সমাধানের আশ্বাস দেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরাসরি পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের একক কাজ না হলেও, একটি সমন্বিত কাঠামোর মাধ্যমে ঢাকা থেকে শুরু করে প্রান্তিক শহরগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

​দেশে বর্তমানে বিদ্যমান ১৭ শতাংশ অবৈধ ইটভাটা এবং ফসলি জমির মাটি কাটার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, রাতারাতি সব সনাতনী ইটভাটা বন্ধ করা সম্ভব না হলেও, পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করে যত্রতত্র করাতকল স্থাপনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আগামী ২০ মে থেকে আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রতি বছর এই ৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

​নদীভাঙন ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে পরিবেশ মন্ত্রী জানান, সোনাগাজী অঞ্চলের ওপর দিয়ে বাইরের স্থান থেকে উত্তোলিত বালু পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে, কারণ এর ফলে রাস্তাঘাট নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক বায়ুদূষণ ঘটছে। অন্যদিকে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নদীভাঙন রোধ এবং পেরী বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করতে আগামী ১০ মার্চ পানিসম্পদ মন্ত্রী সোনাগাজী পরিদর্শনে আসবেন। ওই সময় বাঁধ নির্মাণ ও রেগুলেটর মেরামতের মাধ্যমে ভাঙন রোধে দুই মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ