উমর ফারুক, পঞ্চগড়
পঞ্চগড়ে ডাকাতির রহস্য উদঘাটন করে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে (ডিবি) পুলিশ , এনিয়ে আজ ( ৬ মার্চ ) সকালে পুলিশ সুপারের হলরুমে এক প্রেস ব্রিফিং করেন।
এসময় পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, পঞ্চগড় সদর উপজেলায় সংঘটিত একটি চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
এ ঘটনায় জড়িত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং লুণ্ঠিত মালামালসহ ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজন আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা এলাকায় প্রিন্সিপাল মফিজার রহমান কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল্লাহর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দেয়।
তারা অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ঘরে থাকা আনুমানিক ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার (মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা), নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং একটি স্মার্টফোন লুণ্ঠন করে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর পঞ্চগড় সদর থানায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি দল এসআই মো. আবু হোসেন ও এসআই মো. নাহিদ হাসানের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু করে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে গত ৪ মার্চ গভীর রাতে পঞ্চগড়ের গাড়াতি ছিটমহল, পুকুরিডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৫ ই মার্চ রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মূল পরিকল্পনাকারী মো. আলম (৩৭) কে তার নিজ এলাকা যুগিভিটা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মজিবর রহমান (৩৫), রমজান আলী (৩০), সাদ্দাম হোসেন (৩০), আশিক (১৯), জুবায়ের ওরফে জিদান (১৯) এবং মো. আলম (৩৭)।পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের তথ্য অনুযায়ী লুণ্ঠিত একটি স্মার্টফোন, একটি সিম কার্ড এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি সাবল, একটি ছোট চাকু ও দুটি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, মূল পরিকল্পনাকারী আলম ভুক্তভোগী নুরুল্লাহর প্রতিবেশী। আর্থিক সংকটের কারণে তার মনে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং নুরুল্লাহ হজে যাওয়ার সময় বাড়িতে ডাকাতির পরিকল্পনা করে। পরে সে তার সহযোগীদের নিয়ে পরিকল্পনা করে ঘটনাটি ঘটায়।
গ্রেফতারকৃত আলম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। বর্তমানে সাদ্দাম, জুবায়ের ওরফে জিদান, রমজান, মজিবর ও আশিক দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং আলম জেল হাজতে রয়েছেন।