সাম্প্রদায়িক নয়, ফেনী দাগনভূঞার মন্দিরে নিছকই চুরির ঘটনা

মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে অবস্থিত একটি মন্দিরে চুরির ঘটনার মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে খোয়া যাওয়া মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধারসহ একজনকে জড়িত সন্দেহে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ দিবাগত রাতের কোনো একসময় ওই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আজিজ ফাজিলপুর এলাকার রাজবল্লভ ব্যাপারী বাড়ির দুলাল দেবনাথের রাধা কৃষ্ণ মন্দিরে এই চুরির ঘটনা ঘটে বলে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

​দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফয়জুল আজীম নোমান এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, প্রাথমিক তদন্তের মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি সম্পূর্ণ একটি চুরির ঘটনা, এর পেছনে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা সাম্প্রদায়িক ইন্ধন নেই। ঘটনার দিন ভোরে মন্দিরের দরজা খোলা ও ভেতরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পেয়ে মালিক প্রশাসনকে অবহিত করেন। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে অভিযানে নামে। পরবর্তীতে মালিকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়। এরপর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকার আবুল ড্রাইভারের বাড়ির আশপাশ থেকে মো. রফিকুল্লাহ প্রকাশ মিন্টু নামের এক ব্যক্তিকে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তি একই গ্রামের কবির আহমেদ ও রুপিয়া খাতুনের সন্তান।

​আটক ব্যক্তির কাছ থেকে ভারতের বৃন্দাবন থেকে আনা দুর্লভ ধর্মীয় সামগ্রী ও দুই জোড়া ঠাকুর প্রতিমাসহ খোয়া যাওয়া প্রায় সব জিনিসপত্রই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এদিকে, চুরি যাওয়া অমূল্য সম্পদ ও প্রতিমাগুলো অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী দুলাল দেবনাথ। তিনি জানান, ঘটনার রাতে পার্শ্ববর্তী একটি অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতির সুযোগ নিয়ে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছিল, যা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল এবং তার স্বাভাবিক পূজার্চনা বিঘ্নিত হচ্ছিল।

​অন্যদিকে, এলাকার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করা হয়েছে। কিশোর গ্যাং নির্মূলে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে এবং এলাকায় এ ধরনের কোনো দলের অস্তিত্ব রাখা হবে না বলে পুলিশ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। পাশাপাশি, উন্নয়নমূলক কাজে উৎকোচ দাবির কারণে কাজ বন্ধ থাকার কোনো অভিযোগ এখনো তাদের কাছে আসেনি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ