জসীমউদ্দীন ইতি ঠাকুরগাঁও।
পবিত্র মাহে রমজান কেবল আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাস নয়, এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ চর্চারও শ্রেষ্ঠ সময়। যান্ত্রিক জীবনের কোলাহলে যখন আমরা প্রতিনিয়ত একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছি, তখন ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরের তোরা হাফিজিয়া দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের দৃশ্যটি যেন এক আশার আলো। সম্প্রতি সেখানে ‘অক্সিজেন’ ও ‘লাইফ প্লাস’ নামক দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিল কেবল একটি সাধারণ সামাজিক আয়োজন ছিল না; এটি ছিল মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
মানুষ সামাজিক জীব। কিন্তু বর্তমান সময়ে শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই আত্মকেন্দ্রিকতা মানুষকে গ্রাস করছে। এই পরিস্থিতিতে মেব এবং আরিফা এলাহীর মতো দাতাদের সহায়তায় যে ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে, তা প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে বসে ইফতার গ্রহণ করার যে ছবি আমরা দেখেছি, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে—সমাজকে সুন্দর ও শান্তিময় করার জন্য খুব বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন কেবল সদিচ্ছা এবং মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা।
একটি সমাজ তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সেখানকার মানুষ একে অপরের বিপদে-আপদে কিংবা উৎসবে পাশে দাঁড়ায়। হরিপুরের এই ইফতার আয়োজনে ‘অক্সিজেন’ এবং ‘লাইফ প্লাস’-এর তরুণদের যে তৎপরতা দেখা গেছে, তা আজকের প্রজন্মের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তারা প্রমাণ করেছে, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে কীভাবে সামাজিক অস্থিরতা কমিয়ে পারস্পরিক সহমর্মিতা বাড়ানো যায়।
তবে এই উদ্যোগ যেন কেবল একটি দিনের ইফতার মাহফিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। এই ধরনের মানবিক কার্যক্রম যেন বছরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। সমাজের বিত্তবানরা যদি মেব বা আরিফা এলাহীর মতো মানবিক কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করেন এবং তরুণ প্রজন্ম যদি সেটিকে বাস্তবায়ন করে, তবেই একটি আদর্শ সমাজ গঠন সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায়, হরিপুরের এই ইফতার মাহফিলটি সমাজের অবক্ষয়ের বিপরীতে একটি ইতিবাচক প্রতিবাদের নামান্তর। আমরা আশা করি, এই সম্মিলিত উদ্যোগ হরিপুর ছাড়িয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের প্রতিটি প্রান্তরে ছড়িয়ে পড়বে। মানুষে-মানুষে দূরত্ব নয়, বরং ইফতারের এই সম্প্রীতির সেতুবন্ধনই হোক আমাদের আগামীর পথচলার প্রেরণা।