শাহীন সুলতানা, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জোরদার ও জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কুলিয়ারচর থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগদান করেছেন ইন্সপেক্টর কাজী আরিফ উদ্দিন।
২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকালে আনুষ্ঠানিক ভাবে কুলিয়ারচর থানায় যোগদান করে দ্বায়িত্ব বুঝে নেন তিনি।
এর আগে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ২০০৬ সালে ডিএমপি-তে যোগদান করে এসআই হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে কুলিয়ারচর থানাসহ বিভিন্ন থানায় এসআই হিসেবে এবং ২০১৬ সালে ইন্সপেক্টর হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে কক্সবাজারে দ্বায়িত্ব পালন করেন। পরে রাঙ্গামাটিতে তদন্ত অফিসার ইনচার্জ হিসেবে সততা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নিকলী থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগদান করে উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিনি কাজ করেন। ওখানে দায়িত্ব পালনকালে পেশাদারিত্ব, সততা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদকবিরোধী অভিযান, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমে তার সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। নিকলী থানায়
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি নিষ্ঠা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে থানার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে সাধারণ মানুষের আস্থাভাজন হয়ে উঠেন। মাদক নির্মূল, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়ে থানাকে জনবান্ধব করে তুলেন।
সহজ সরল সাদা মনের অত্যন্ত নিয়মপ্রিয় ও কর্মঠ ওসি কাজী আরিফ উদ্দিন দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সাথে বলেন, কুলিয়ারচরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে “থানার দরজা সবসময় জনগণের জন্য খোলা। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমন করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।” পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি ছাড়াই থানায় সেবা পেতে পারেন, সে বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও জানান, থানাকে ঘিরে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত ওপেন হাউস ডে, বিট পুলিশিং সভা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার রোধেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ নতুন ওসিকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, তার নেতৃত্বে কুলিয়ারচরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন।উল্লেখ্য, কুলিয়ারচর উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা হিসেবে পরিচিত। এ অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নতুন ওসির কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।
কাজী আরিফ উদ্দিন ১৯৮১ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবাবে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিবাহিত। এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক তিনি।