কপিলমুনিতে দোকান ঘর দখলের অভিযোগ, প্রশাসনের একাধিক আদেশ উপেক্ষার দাবি

রাসেল আহমেদ,খুলনা:

 

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজারে একটি দোকান ঘর জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে, প্রশাসনের একাধিক তদন্ত ও আদেশে তাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত এলেও প্রতিপক্ষ তা মানছে না।
অভিযোগকারী তানজীম মুস্তাফিজ জানান, তার বাবা মো. গোলাম মোস্তফা ২০১৭ সালের ২৩ মার্চ ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কানাইদিয়া গ্রামের শেখ হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে নগদ ১০ লাখ টাকায় কপিলমুনি বাজারের কাপড়ের পট্টিতে অবস্থিত একটি দোকান ঘর ক্রয় করেন। কপিলমুনি মৌজার জেএল নং ১৭, ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ১৭২/১ নম্বর দাগভুক্ত হাট পেরিফেরী বন্দোবস্তভুক্ত ১৯.৫০ বর্গমিটারের ওই দোকান ঘরটি ‘মেসার্স সরদার বস্ত্রালয়’ নামে ভোগদখলে ছিল।
তিনি বলেন, বাবার মৃত্যুর পর সরকারি বিধি মোতাবেক তার নামে ডিসিআর কাটা হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাবিবুর রহমানের ছেলে শেখ লিটন লোকজন নিয়ে দোকানটি জবরদখল করেন। এ সময় সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর দ্বারস্থ হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাগজপত্র দেখতে চান। বৈধ কাগজ দেখাতে ব্যর্থ হয়ে শেখ লিটন দোকানের চাবি ফেরত দেন বলে দাবি করেন তানজীম।
তার অভিযোগ, এরপর ১৪ আগস্ট সার্ভেয়ারকে বিভ্রান্ত করে শেখ হাবিবুর রহমানের নামে নতুন করে একটি ডিসিআর কাটা হয়। বিষয়টি জানার পর ১৫ আগস্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর অভিযোগ দিলে তাৎক্ষণিক ওই ডিসিআর বাতিল করা হয়।
পরে শেখ হাবিবুর রহমান জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সরেজমিন তদন্ত করে গত ২৪ নভেম্বর তানজীমদের পক্ষে আদেশ দেন বলে জানান তিনি।
তবে সর্বশেষ গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দোকানের তালা ভেঙে পুনরায় দখল করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে তিনি বিষয়টি থানায় পাঠান। পরবর্তীতে ওসি কার্যালয়ে উভয় পক্ষের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে তানজীমদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় বলে দাবি তার।
তানজীম মুস্তাফিজ অভিযোগ করেন, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও শেখ লিটন ও তার লোকজন তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হুমকি দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ শেখ লিটনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রশাসনের একাধিক সিদ্ধান্তের পরও যদি দখলবাজি বন্ধ না হয়, তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ