
মো: রফিকুল ইসলাম,নড়াইলঃ
নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে (২৩ ফেব্রুয়ারি) সোমবার ভোর রাতে সেহরি খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয়ার সময় সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্যার লোকজন দেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে এসে বাবা খলিল শেখ,ছেলে তাহাজ্জত শেখ ও প্রতিবেশী ফেরদাউস হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন খলিল শেখ পক্ষের লোকজন।
নড়াইল সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে বাবা-ছেলেসহ চারজন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইপক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় দুইপক্ষের আসামির সংখ্যা ১২৩ জন। এছাড়া অজ্ঞাত পরিচয় আরো ৫০-৬৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে,বাবা-ছেলেসহ তিনজন হত্যার ঘটনায় প্রতিপক্ষের ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে, অপরপক্ষের ওসিবুর ফকির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার হয়নি।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া জানান,শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে নিহত ওসিবুরের বাবা ওসমান ফকির ৫৪ জনের নামে থানায় মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় আরো ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়। এদিকে,অপরপক্ষে বাবা খলিল শেখ (৭০),তার ছেলে তাহাজ্জত শেখ (৪১) ও প্রতিবেশী ফেরদাউস হোসেন (৪০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৬৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২ টার দিকে নিহত খলিল শেখের ছেলে রুবেল শেখ এ মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় অজ্ঞাত পরিচয় আরো ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। উল্লেখ্য,এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে সেহরি খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয়ার সময় সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্যার লোকজন দেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়িতে এসে বাবা খলিল শেখ,ছেলে তাহাজ্জত শেখ ও প্রতিবেশী ফেরদাউস হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন খলিল শেখ পক্ষের লোকজন।
তবে,খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্যার লোকজন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন,(২৩ ফেব্রুয়ারি) ওই রাতে ওসিবুর ফকিরসহ আমাদের বাড়ি ছাড়া লোকজন বাড়িতে উঠতে যাওয়ার পথে খলিল শেখের বাড়ির সামনে গেলেই খলিল শেখের লোকজন আগে ওসিবুর ফকিরকে কুপিয়ে হত্যা করে এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় এবং নিহত ওসিবুর ফকিরসহ আমাদের লোকজনের বাড়ি-ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।