রাসেল আহমেদ,খুলনা:
খুলনা-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই স্বাস্থ্যখাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা শুরু করেছেন। বুধবার তিনি তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে সেবার সার্বিক অবস্থা ঘুরে দেখেন এবং রোগী-স্বজন ও চিকিৎসাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে এমপি হেলাল বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসা প্রাপ্তির অভিজ্ঞতা শোনেন। ওষুধ সরবরাহ, পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ, জরুরি সেবা এবং ভর্তি রোগীদের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজ নেন। অনেক রোগী ও স্বজন চিকিৎসক ও নার্সের আন্তরিকতার কথা জানালেও জনবল সংকট ও কিছু প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও নার্সের একাধিক পদ শূন্য থাকায় সেবা কার্যক্রম চাপে রয়েছে। একই সঙ্গে কিছু আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহর বা অন্যত্র রেফার করতে হচ্ছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বেডসংখ্যার তুলনায় রোগীর চাপ বেশি থাকাও সেবায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজাহিদুল ইসলাম সংসদ সদস্যকে হাসপাতালের বর্তমান জনবল কাঠামো, শূন্যপদের সংখ্যা, সরঞ্জাম ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি জনবল নিয়োগ, নতুন যন্ত্রপাতি সরবরাহ এবং অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এ সময় এমপি হেলাল বলেন, “মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তেরখাদার মানুষ যেন নিজ এলাকায় থেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান, সে বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেব। হাসপাতালের যে সীমাবদ্ধতাগুলো রয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কেবল অবকাঠামো নয়, দক্ষ জনবল ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় জরুরি। স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হলে রোগীদের অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি কমবে এবং অর্থনৈতিক চাপও হ্রাস পাবে।
পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.বি.এম. সারোয়ার রাব্বী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস.এম. নুরুন্নবী, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শহীদুল্লাহসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা এমপির এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, ঘোষিত পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মানে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সরেজমিন তৎপরতায় স্বাস্থ্যখাত নিয়ে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তারা আশা করছেন, নিয়মিত মনিটরিং ও কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে হাসপাতালের দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে উঠবে এবং সাধারণ মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে।