শাহীন সুলতানা, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
.
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় পুকুরে তেলজাতীয় বিষাক্ত পদার্থের ঢেলে দেওয়ার কারণে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার মাছ মারা গেছে। এই ঘটনায় সর্বস্ব হারিয়ে পুকুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত মাছ চাষিরা।
খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ওই পুকুর সরজমিনে পরিদর্শন করেন কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএ হান্নান। এ সময় উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং রামদী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নের মনোহরপুর পূর্বপাড়া এলাকায় নুরুল কুরআন মাদ্রাসা সংলগ্ন হাইওয়ে সড়কের পাশে অবস্থিত প্রায় ১০০ শতাংশ আয়তনের একটি পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য মাছ পানির ওপর মৃত অবস্থায় ভেসে আছে। পুরো পুকুরজুড়ে নেমে এসেছে নীরবতা ও হতাশার দৃশ্য।
ওই পুকুরটি প্রায় দুই বছর আগে লিজ নিয়ে যৌথভাবে মাছ চাষ শুরু করেন তৈয়ব আলী ভূঁইয়ার তিন ছেলে মোহাম্মদ বিল্লাল ভূঁইয়া, বকুল ভূঁইয়া ও বরকাত ভূঁইয়া। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় তারা দিন-রাত পরিশ্রম করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছিলেন।
পবিত্র রমজান মাসের ২০ রোজার পর পুকুর থেকে মাছ বিক্রি করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর পাশাপাশি ঈদ পালনের পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু রাতের আঁধারে সবকিছু যেন মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে।
নেতৃবৃন্দকে কাছে পেয়ে মাছ চাষিরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। এই সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। এতে মাছ চাষি তিন ভাইয়ের দুই বছরের পরিশ্রম ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিঃশেষ হয়ে গেছে।
খামারিদের ধারণা, পুকুরটি হাইওয়ে সড়কের পাশে হওয়ায় কোনো তেলবাহী যানবাহন থেকে রাস্তার পাশে তেল বা কেমিক্যাল জাতীয় পদার্থ ফেলে দেওয়া হয় অথবা প্রতিহিংসার বশে কেউ আমাদের ক্ষতি করার জন্য পুকুরে বিষাক্ত তৈলাক্ত পদার্থ ঢেলে দিয়েছে। ফলে পুকুরের প্রায় সব মাছ মারা যায়।
খামারিদের দাবি, এ ঘটনায় তাদের প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। এতে তারা চরম সংকটে পড়েছেন। তারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।