
জসীমউদ্দীন ইতি, ঠাকুরগাঁও।
ঠাকুরগাঁও জেলার সীমান্তবর্তী ও ঐতিহ্যবাহী জনপদ হরিপুর উপজেলা। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই জনপদে এখন বইছে আগাম রাজনীতির তপ্ত হাওয়া।
চায়ের টেবিল থেকে শুরু করে গ্রামের হাট-বাজার—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচন’। তবে এবারের নির্বাচনে অন্য সব জল্পনা-কল্পনাকে ছাপিয়ে একটি নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি হলেন হরিপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সফল ভাইস চেয়ারম্যান “আলহাজ্ব মোঃ আবু তাহের”। তার প্রার্থিতা এবং তাকে ঘিরে তৃণমূলের যে স্বতঃস্ফূর্ত জাগরণ দেখা যাচ্ছে, তা স্থানীয় রাজনীতির ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাজনীতিতে জোয়ার-ভাটা থাকবেই, কিন্তু সংকটে যে নেতা মাঠ ছাড়েন না, কর্মীরা তাকেই হৃদয়ে স্থান দেয়। আলহাজ্ব আবু তাহেরের রাজনৈতিক জীবন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি কেবল ড্রয়িংরুমের রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। হরিপুর উপজেলার সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে এবং দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার এই আপসহীন মনোভাবই তাকে আজ তৃণমূল কর্মীদের আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে। নেতাকর্মীরা মনে করছেন, আবু তাহেরের মতো একজন অভিজ্ঞ নেতা উপজেলা পরিষদের হাল ধরলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
হরিপুরের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে সবচেয়ে প্রভাবশালী বিষয় হলো ঠাকুরগাঁও-২ আসনের বর্তমান জনপ্রিয় সংসদ সদস্য “ডা. মোঃ আব্দুস সালামের” আস্থা। রাজনৈতিক মহলে জোরালো আলোচনা রয়েছে যে, আবু তাহের এমপির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত একজন মানুষ। ডা. সালামের উন্নয়ন দর্শনকে তৃণমূল পর্যায়ে সার্থকভাবে রূপায়ন করার জন্য আবু তাহেরের মতো একজন দক্ষ সংগঠক ও দূরদর্শী নেতার প্রয়োজন রয়েছে। এমপির ‘গ্রিন সিগন্যাল’ বা সবুজ সংকেত পাওয়ার বিষয়টি এখন টক অফ দ্য টাউন। এই সমর্থন আবু তাহেরের পাল্লাকে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি ভারী করে দিয়েছে, যা সাধারণ ভোটারদের মনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
একজন নেতার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয় তার অতীত কর্ম দিয়ে। আবু তাহের যখন হরিপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন, তখন তার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের জন্য তার দ্বার উন্মুক্ত রাখার বিষয়টি আজও মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও এলাকায় তার বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। তার ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ এবং দুর্নীতির কলঙ্কমুক্ত জীবন তাকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। হরিপুরের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, একজন সৎ ও যোগ্য ব্যবসায়ী যখন জনপ্রতিনিধি হন, তখন এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হয়।
সরেজমিনে হরিপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, আবু তাহেরের প্রার্থিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ। বিশেষ করে যুবসমাজ ও তৃণমূলের প্রবীণ কর্মীদের মধ্যে তাকে নিয়ে এক ধরণের ‘আবেগ’ কাজ করছে। চায়ের দোকানে আড্ডারত এক কর্মী বলেন, *”আমরা এমন নেতা চাই যিনি আমাদের কথা শুনবেন, আমাদের বিপদে পাশে দাঁড়াবেন। আবু তাহের ভাই সেই মানুষ যাকে আমরা যেকোনো প্রয়োজনে হাতের নাগালে পাই।”* এই যে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসা, এটাই আবু তাহেরের সবচেয়ে বড় শক্তি। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তার সমর্থনে যে জনমত তৈরি হয়েছে, তা অনেকটা ‘গণজোয়ারে’ রূপ নিয়েছে।
হরিপুর উপজেলাকে একটি আধুনিক, মডেল ও বৈষম্যহীন উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজন দূরদর্শী নেতৃত্ব। ডা. মোঃ আব্দুস সালামের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ছায়াতলে থেকে আবু তাহের যদি হরিপুরের হাল ধরেন, তবে এই অঞ্চলের উন্নয়নের চাকা আরও সচল হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।
ভোটের রাজনীতিতে শেষ পর্যন্ত কী হয় তা সময় বলে দেবে, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট ও জনমত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, হরিপুরের নির্বাচনী সমীকরণ এখন আবু তাহেরের দিকেই হেলে আছে। যোগ্যতার এই মূল্যায়ন যদি ভোটের ব্যালটে প্রতিফলিত হয়, তবে হরিপুর উপজেলা এক নতুন স্বর্ণযুগের সূচনা দেখবে ইনশাআল্লাহ।