
রাসেল আহমেদ,খুলনা:
খুলনার তেরখাদা উপজেলাতে রমজান এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আগের মতোই ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন চাপের মধ্যে।
খামার থেকে বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষদের ভোগান্তি বেড়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা সদরের বৃহত্তম বাজারখ্যাত কাটেঙ্গা, তেরখাদা ও জয়সেনা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইফতারের প্রধান উপকরণ ছোলা ও মসুর ডালের দাম বেড়ে গেছে। ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকা এবং মোটা মসুর ডাল ১০০ টাকায়। চিনি কেজিতে ১০০ টাকা, যা রোজার আগে ৯৫ টাকা ছিল। খেজুরের দামও হঠাৎ বেড়ে নিম্নমানের খেজুর ২০০ টাকা থেকে মাঝারি মানের খেজুর ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দুধের দাম লিটারে ৫০ টাকা বেড়ে এখন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ৬০ টাকা থেকে ১০০–১২০ টাকায়, কাঁচা মরিচ ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় এবং শসা ৫০ থেকে ৮০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রমজানের শুরুতেই কলার সরবরাহও সীমিত হওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। ছোট চম্পা কলা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়, ভালো মানের সাগর কলা ৫০০–৫৫০ টাকা এবং সবরি কলা ৩৫০–৪০০ টাকায়।
পেঁয়াজ, তেল ও আমিষপণ্যের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৫৫–৯৮০ টাকায়। পেঁয়াজের দাম দুই দিনের মধ্যে বেড়ে ৫০ টাকায় পৌঁছেছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা, বড় রুই ও কাতল মাছ ৩৫০–৪০০ টাকা, পাঁচমিশালি ছোট মাছ ৮০০–৯০০ টাকা, প্যাঙ্গাস ২০০–২৫০ টাকা এবং চিংড়ি ১০০০–১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ১৫০ টাকার কিছু বেশি দামে বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি এখন ১৯০–২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাটেঙ্গা বাজারে বাজার করতে আসা এক ক্রেতা জানান, “রমজান এলেই দোকানিরা দামের প্রতিযোগিতা শুরু করেন। সরকার বললেও বাজারে এসে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। মনিটরিংয়ের খবর পেলে তালিকা ঝুলিয়ে রাখেন, আদালত চলে গেলে আবার আগের মতো দাম বাড়ে। এতে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ে।”
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। আড়ৎ পর্যায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় খুচরা পর্যায়ে দাম বৃদ্ধি পায়। তবে কয়েকদিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.বি.এম. সরোয়ার রাব্বী বলেন, রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা প্রশাসন সক্রিয়ভাবে মনিটরিং করছে। বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কেউ দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রমজানের শুরুতেই তেরখাদার বাজারে এমন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ক্রেতারা আশা করছেন, প্রশাসনের কার্যকর মনিটরিং ও কঠোর তদারকির মাধ্যমে বাজারে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।