
রুকন উদ্দিন, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা)।
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ৯নং নওপাড়া ইউনিয়নের নওপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় কতৃক আয়োজিত ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আদলে সেজে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গেলে ওই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বাধা দেন। এবিষয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ওই শিক্ষার্থীর বাবা মো. লিঙ্কন মিয়া অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় অভিভাবক ও সচেতন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয় সুত্রে জানা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ের একটি প্রোগ্রামে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের আদলে নিজেকে উপস্থাপন করে। এসময় ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার অনুরূপ বেশে মঞ্চে ওঠার প্রস্তুতি নিলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জিয়াউর রহমান তালুকদার, শরীরচর্চা শিক্ষক শহিদুজ্জামান মিন্টু সহ অন্যান্য শিক্ষকগণ অনুরূপ বেগম খালেদা জিয়াকে বাধা প্রদান করেন। অভিভাবকদের দাবি, এমন বাধা শিশুর সৃজনশীলতা ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে শিশুদের মুক্তচিন্তা ও আত্মপ্রকাশের সুযোগ দেওয়া। সেখানে কোনো নির্দিষ্ট চরিত্রে সেজে আসায় তাকে বাধা দেয়া অনাকাঙ্ক্ষিত। তবে, বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তারা বলেছেন, অনুষ্ঠান পরিচালনার কিছু নীতিমালা ও পরিস্থিতিগত কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সহকারী শিক্ষক (শরীরচর্চা) শহিদুজ্জামান মিন্টু বলেন, ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’ আঙ্গিকে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার আদলে সেজেছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সে যখন ধানের শীষ প্রতীকে উপস্থিত সবার কাছে ভোট চাওয়া শুরু করলো তখন তাকে নিষেধ করা হয়।
সহকারী শিক্ষক মো. জিয়াউর রহমান তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদলে সাজলেও ওই শিক্ষার্থী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর (বর্তমান এমপি) পক্ষে ভোট চাওয়ার কারণে তার আঙ্গিকটি বাদ দেয়া হয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাফসা আক্তার জানান, আমিও মর্মাহত, ছাত্রীটির বাবা এর সঠিক বিচার চেয়ে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো আমি কেন অভিযোগ নিয়েছি তার জন্য সহকারী শিক্ষক ফাহমিদা ইয়াসমিন (পপি) আমাকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করে এবং অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
সহকারী শিক্ষক ফাহমিদা ইয়াসমিন (পপি) বলেন, ওইদিন ওই ছাত্রীর সাথে এরকম কোন ঘটনা ঘটেনি, তারপরও ছাত্রীর বাবা প্রধান শিক্ষকের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমরা অভিযোগে কি লেখা সেটা দেখার জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম এছাড়া কিছু না, আমার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।