জসীমউদ্দীন ইতি ঠাকুরগাঁও।
রাজনীতি জনকল্যাণের মাধ্যম, কিন্তু যখন সেই রাজনীতি প্রতিহিংসার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়, তখন ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ এবং একটি অঞ্চলের স্থিতিশীলতা। বাংলাদেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও বরাবরই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনীতির জনপদ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে জেলার শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার দীর্ঘকালীন কারাবাস এই জনপদে এক ধরনের স্থবিরতা ও উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো: দবিরুল ইসলাম, সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন, দেবাশীষ দত্ত সমীর, নারী নেত্রী আফসানা আক্তার চামেলি এবং আঞ্জুমান আরা বন্যাসহ জেলার অসংখ্য নেতাকর্মী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে তাদের জনবিচ্ছিন্ন রাখা এবং কারান্তরালে থাকা ঠাকুরগাঁওয়ের সামগ্রিক রাজনৈতিক কাঠামোর জন্য এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।
বিশেষ করে সাবেক এমপি দবিরুল ইসলামের বিষয়টি এখন কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং একটি মানবিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা এবং শারীরিক জটিলতার কারণে তার মতো একজন প্রবীণ জননেতাকে দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখা কতোটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্ন এখন ঠাকুরগাঁওয়ের আপামর জনতার মনে। একইভাবে তরুণ ও উদীয়মান নেতৃত্ব মাজহারুল ইসলাম সুজনসহ অন্যান্যদের অনুপস্থিতি মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা সৃষ্টি করেছে।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনের শাসন যেমন অপরিহার্য, তেমনি রাজনৈতিক উদারতা ও মানবিকতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ঢালাওভাবে নেতাদের কারাবন্দী রাখা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। আমরা জানি, ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি এলাকাবাসীর এক বিশেষ আশা রয়েছে। রাজনৈতিক বড়াই বা দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠে নিজ জেলার এই সন্তানদের মুক্তির ব্যাপারে তিনি যদি একটি জোরালো ভূমিকা রাখেন, তবে তা ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতির জন্য এক মহৎ ও অনন্য নজির হবে।
উপসংহার
রাজনীতিতে পক্ষ-বিপক্ষ থাকবেই, কিন্তু জনস্বার্থে এবং মানবিক বিবেচনায় সকল রাজবন্দীদের জামিন ও মুক্তির ব্যবস্থা করা এখন ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই, ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনৈতিক পরিবেশ পুনরায় সচল করতে এবং জনমনে স্বস্তি ফেরাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিন। প্রতিহিংসা নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ প্রশস্ত হোক।