ফেনী-৩ আসন থেকে প্রথম পূর্ণ মন্ত্রী পেলেন দাগনভূঞাবাসী

মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।

দীর্ঘ তিন দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল আউয়াল মিন্টু ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ মন্ত্রীর শপথ গ্রহণ করেছেন। একটি অনাড়ম্বর আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার বুঝে নেন।

​নতুন মন্ত্রীসভার মোট ৪৯ জন সদস্য এই দিন শপথ গ্রহণ করেন, যার মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান পদে আসীন আবদুল আউয়াল মিন্টুর এই অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ফেনী জেলায় বিগত ৩৬ বছরের মন্ত্রীত্বের খরা দূর হলো। রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়কালকে হিসাবের বাইরে রাখলে ১৯৮৯-১৯৯০ মেয়াদে জাতীয় পার্টির শাসনামলে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) জাফর ইমাম সর্বশেষ এই জেলার হয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৭০ সালের পর থেকে এই আসনে চারবার আওয়ামী লীগ, দুবার জাতীয় পার্টি এবং তিনবার বিএনপি জয়লাভ করলেও বিজয়ী প্রার্থীরা মূলত সোনাগাজী বা ফেনী সদর এলাকার ছিলেন। ফলে দীর্ঘ ৫৪ বছর পর দাগনভূঞা উপজেলা থেকে কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সরাসরি মন্ত্রিসভায় স্থান করে নিলেন।

​সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন ওরফে মানিকের প্রাপ্ত ১ লাখ ৮ হাজার ১৬০ ভোটের বিপরীতে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক এই সভাপতির জন্ম ১৯৪৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দাগনভূঞা উপজেলার আলাইয়াপুর গ্রামে। তিনি ১৯৬৪ সালে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক, ১৯৬৬ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক এবং ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রামের মেরিন একাডেমি থেকে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিউইয়র্ক স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৭৩ সালে মেরিন ট্রান্সপোর্টেশনে উচ্চতর ডিগ্রি এবং ১৯৭৭ সালে এমএসসি অর্জন করেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। তার পিতা প্রয়াত হাজী সফি উল্যাহ দাগনভূঞা উপজেলার দুবারের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ভাই আকবর হোসেন একই পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল উইমেন এন্টারপ্রেনারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ওয়েব) চেয়ারপারসন এবং বড় ছেলে তাবিথ আউয়াল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) বর্তমান সভাপতি ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য।

​নতুন এই রাজনৈতিক অর্জনের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেনীর দাগনভূঞা ও সোনাগাজী এলাকার সাধারণ মানুষ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। মন্ত্রীর নিজ জন্মস্থান দাগনভূঞা উপজেলার বেকের বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করেন এবং সাধারণ মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এই প্রাপ্তি প্রসঙ্গে ফেনী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন আলাল অভিমত প্রকাশ করেন যে, দলের একজন পরীক্ষিত নেতাকে যথার্থ স্থানে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং তিনি অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে নিজ দপ্তরের কাজ পরিচালনা করবেন।

অন্যদিকে, দাগনভূঞা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী আশা ব্যক্ত করেন, এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের দিকনির্দেশনায় স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে সমগ্র দেশের অগ্রগতি আরও গতিশীল হবে। সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবদিন বাবলুর মতে, দীর্ঘদিন ধরে ফেনী-৩ আসনের জনগণ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছিল, যা এবার দূর হবে। দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন বিশ্বাস করেন, নবনিযুক্ত এই মন্ত্রী নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণের পাশাপাশি এলাকাকে উৎকোচ গ্রহণকারী ও মাদকমুক্ত করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন। সবশেষে ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার জানান, ২০০৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থেকে বিদায় নেওয়ার পর দীর্ঘসময় ফেনীবাসী আর কোনো মন্ত্রী পায়নি, তাই এবারের এই প্রাপ্তি জেলার সার্বিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ