
শাহীন সুলতানা, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার বীর কাশিমনগর ফেদাউল্লাহ্ উচ্চ বিদ্যালয়ে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ৮৯তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের নিজস্ব খেলার মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শারীরিক সক্ষমতা ও দলগত সমন্বয় বাড়াতে নিয়মিত ক্রীড়া চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রিয়াজুল করিম স্বাগতিক বক্তৃতা দেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া চর্চার মাধ্যমে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্ব গুণাবলী বিকাশের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন সালুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. দেলোয়ার হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার উত্তরাধিকারী ও আজীবন দাতা ফজলুল করিম, ফরিদপুর আব্দুল হামিদ ভূইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, আজিজুল হক ভূইয়া মজনু,জামান। এছাড়াও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং জাতীয় পতাকা, ক্রীড়া পতাকা ও স্কাউট পতাকা উত্তোলন করে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। পরে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম প্রেসিডেন্ট মৌলভী আব্দুল করিমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাপনা করেন সহকারী শিক্ষক মো. মোখলেছুর রহমান এবং ধারাবর্ণনার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী গ্রন্থাগারিক মো. আসাদুল করিম।
প্রধান আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের শারীরিক কসরত ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, যেমন—দৌড় প্রতিযোগিতা, গোলক নিক্ষেপ, চাতকি নিক্ষেপ, মোরগের লড়াই, মিউজিক্যাল চেয়ার, পুকুর পাড় প্রতিযোগিতা, সতিনের ছেলে কেউ নেয় না কোলে, দড়ি লাফ, যেমন খুশি তেমন সাজ। এছাড়া বিশেষ ডিসপ্লে ও নৃত্য পরিবেশনও ক্রীড়া মঞ্চে উপস্থিত দর্শকদের মনোরঞ্জনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও উদ্যমের প্রশংসা করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রিয়াজুল করিম বলেন, “শারীরিক চর্চা ও ক্রীড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, দলগত সহযোগিতা ও মনোবল বৃদ্ধি পায়। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস অর্জন করে।”
পুরো অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রীড়া চর্চার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।