মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।
টানটান উত্তেজনা আর উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হওয়া ফেনী জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের জয়জয়কার দেখা গেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রাতে প্রাপ্ত চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, জেলার তিনটি আসনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থীরা। মোট ১৩ লাখেরও বেশি ভোটারের এই জেলায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে এখন সরকারি গেজেট প্রকাশের অপেক্ষা চলছে।
ভোটের ফলাফলের দিক থেকে জেলার সবচেয়ে বড় চমক ছিল ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসনটি। সর্বাধিক ভোটারের এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ ভোট পেয়ে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ আবদুল আউয়াল মিন্টু। ১৬১টি ভোটকেন্দ্রের সবকটির ফলাফল সমন্বয়ের পর তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এই আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৬০ ভোট।
অন্যদিকে, জেলার রাজনীতির স্নায়ুকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ফেনী-২ (সদর) আসনেও আধিপত্য বজায় রেখেছেন ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপি। তিনি ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঈগল প্রতীকের মজিবুর রহমান ভুঁইয়া মঞ্জু পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৮ ভোট। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই পরাজিত প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ভিপিকে অভিনন্দন জানিয়ে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উত্তরের জনপদ ফেনী-১ (ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম) আসনেও জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছে ধানের শীষ। এই আসনে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন রফিকুল আলম মজনু। তার বিপরীতে দাড়িপাল্লা প্রতীকের এস এম কামাল উদ্দিন ৮৫ হাজার ৬১৫ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অবস্থান করছেন। এই আসনের ১২১টি কেন্দ্রের সবকটিতেই মজনুর একক আধিপত্য পরিলক্ষিত হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, জেলার তিনটি আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১৩ লাখের বেশি। দিনভর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ এবং রাতে দ্রুত ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেবল সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা বাকি।