
উমর ফারুক, পঞ্চগড়
উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সকাল সাড়ে সাতটা থেকেই সারাদেশের মতো পঞ্চগড়ের দুটি আসনে নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। তবে সকালে উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও দুপুর গড়ানোর পর বাড়তে থাকে ভোটারের চাপ।
দুপুরের পর কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় ১ ও ২ আসনে বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ১২টার পর থেকেই কেন্দ্রমুখী হতে থাকেন নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন বয়সী ভোটাররা। কোথাও কোথাও ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে তাদের। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিকে, প্রায় সব কেন্দ্রে তৎপর রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। কেন্দ্রে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে জোরদার করা হয়েছে নজরদারি।
এছাড়া এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে দুপুরের পর এ দুই আসনের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত । এবারে জেলার ২৮৬টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
পঞ্চগড় জেলার বিভিন্ন ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, “বিগত সরকারের আমলে শান্তিপূর্ণভাবে কেউ ভোট দিতে পারেনি । ভোট দেওয়ার কোন পরিবেশ ছিল না। এবারে উৎসব মুখর পরিবেশে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ মনের আনন্দে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছি।”
এবারে পঞ্চগড়-১ (সদর, আটোয়ারী ও তেঁতুলিয়া) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৮০৭ জন। এ আসনের ১৫৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির ব্যারিস্টার মুহম্মদ নওশাদ জমির (প্রতীক: ধানের শীষ) এবং এনসিপি ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সারজিস আলম (প্রতীক: শাপলা কলি)।
অন্যদিকে পঞ্চগড়-২ (বোদা ও দেবীগঞ্জ) আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৪ হাজার ৩৫৩ জন। ১৩১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এ আসনে বিএনপির ফরহাদ হোসেন আজাদ (প্রতীক: ধানের শীষ) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ শফিউল্লাহ সুফী (প্রতীক: দাঁড়িপাল্লা) মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
কেন্দ্রের বাইরে সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনী শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা।