
জসীমউদ্দীন ইতি, ঠাকুরগাঁও
মাঘের শেষে শীতের দাপট কিছুটা কমলেও ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনি আমেজে বেড়েছে রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ফসলের মাঠ সবখানেই ভোটের আলোচনা। প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন জোর প্রচারণায়। সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ আর নানা প্রতিশ্রুতিতে মুখর পুরো জেলা। তবে ভোটকে ঘিরে প্রত্যাশার পাশাপাশি নানা কারণে শঙ্কায় রয়েছেন সাধারণ ভোটাররা।
সদর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কাশিডাঙ্গা গ্রামের স্কুলশিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, বিগত সময়ে ভোটকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনা দেখা গেছে। আমরা আর তার পুনরাবৃত্তি চাই না। ভোট হোক আনন্দের, উৎসবমুখর। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
এবার ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ২০ জন প্রার্থী। প্রায় ১২ লক্ষাধিক ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৪১৭টি ভোটকেন্দ্রে। এর মধ্যে ২০১টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে ১৮৫টির মধ্যে ৯২টি, ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রাণীশংকৈলের একাংশ) আসনে ১০৪টির মধ্যে ৪৬টি, ঠাকুরগাঁও-৩ (পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল) আসনে ১২৮টির মধ্যে ৬৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নির্বাচন উপযোগী করা ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইশরাত ফারজানা বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বাস্তবায়নে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে-কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক ও তৎপর থাকবে। সবার অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।
নতুন সরকার গঠনের পর কৃষিনির্ভর-এ জেলার মানুষের প্রত্যাশা অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মাদক ও অনলাইন জুয়া শক্ত হাতে দমন করবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা।