
মোঃ মিজানুর রহমান, হবিগঞ্জ
– হবিগঞ্জ-৪ আসনের দেয়ালঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেছেন, দেশের মানুষ প্রতিশ্রুতির রাজনীতিতে ক্লান্ত। এবার তারা বাস্তব উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক শাসন দেখতে চায়।
তিনি বলেন, উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হলে জনগণ যেন নির্দ্বিধায় তাঁকে প্রত্যাখ্যান করে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চুনারুঘাট পৌর শহরে ১১ দলীয় ইসলামী ঐক্য ও আধিপত্যবাদবিরোধী দেশপ্রেমিক শক্তির আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, নির্বাচিত হলে হবিগঞ্জ-৪ আসনে একটি পূর্ণাঙ্গ মহিলা কলেজ স্থাপন করা হবে।
পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট একটি আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, চিকিৎসার অভাবে যেন আর কোনো মানুষ কষ্ট না পায়- এটাই তাঁদের অঙ্গীকার।
চা-শ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে পাকাবাড়ি নির্মাণ ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাই তাঁদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, চুনারুঘাট–মাধবপুরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো চার লেনে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি চুনারুঘাটে অন্তত দুটি নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এতে যোগাযোগ সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, মসজিদ ও মন্দিরসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন সমান গুরুত্ব দিয়ে করা হবে। তাঁর দাবি, বিভাজনের রাজনীতির বদলে সকল মানুষকে সমানভাবে নিয়ে এগোনোই তাঁদের লক্ষ্য। জনসভা শেষে ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একবার সুযোগ দিলে তাঁরা কথা নয়, কাজের মাধ্যমে রাজনীতি যে মানুষের সেবার জন্য- তা প্রমাণ করতে চান।
১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজিত জনসভায় চুনারুঘাট উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা ইদ্রিস আলীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা আমির কাজী মাওলানা মুখলিছুর রহমান, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় শ্রমবিষয়ক সম্পাদক প্রভাষক আব্দুল করিম, অধ্যাপক ফিরুজুল ইসলাম চৌধুরী, আব্দুল কাইয়ুম জাকি, অ্যাডভোকেট সারোয়ার রহমান চৌধুরী, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মীর সাহেব আলী, মাওলানা আইয়ুব আলী, এনসিপিপ সভাপতি আব্দুল মালেকসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা।