
ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
জামায়াতে ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা যখন মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধ করে মারা যাচ্ছি তখন তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীদের সহযোগিতা করেছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ আসন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী ইউনিয়নে বসভাঙ্গা কালিতলা মন্দিরে নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সাথে আমাদের মূল পার্থক্য হচ্ছে যে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না। আর আমাদের শুরুই হচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিয়ে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিলেন।
মহাসচিব বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অস্তিত্ব, আমাদের প্রাণ। আমরা স্বাধীনতাকে ধারণ করে চলি। এখানে জামায়াতের সাথে আমাদের পার্থক্য। এ কথা তাদের বললেই তারা বলে অতীত সম্পর্কে কথা বলবেন না। কিন্তু অতীত তো আমার আসল ভিত্তি।
তিনি আরো বলেন, আমরা বলতে চাই, আমরা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান একসাথে যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছি সেই মানুষগুলোকে আজকে এক হওয়া দরকার। কারণ আজকে প্রতিপক্ষ একটি দল দাড়িয়েছে, যে প্রতিপক্ষ আমাদের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা যে এতগুলো মানুষকে মেরেছে এজন্য তারা মাফও চায়নি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে আমি বেশি আসতে পারিনি কারণ আমাকে সারা বাংলাদেশের দলগুলোকে একত্রি রাখার কাজ করতে হয়েছে। আমরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। আমার বিরুদ্ধে ১১৭ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ১১ বারে সাড়ে তিন বছর জেলে গেছি শুধুমাত্র অবাধ একটি ভোটের জন্য।
তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত বর্তমান সরকারের কাছে আমরা যা দেখছি তাতে বোঝা যাচ্ছে এবারের নির্বাচনটি খুব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে। আমরা শান্তিতে ভোট প্রদান করতে পারবো। এই ভোটে আপনারা কেউ কোন প্রকার ভয় পাবেন না। এবারে তিন বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোট গ্রহণ হবে তাই আপনারা নির্ভয়ে ভোট দিবেন। সেই সাথে বিএনপি আপনাদের সাথে সবসময় আছে, থাকবে।
এ সময় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলটির অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।