আলিফ মাহমুদ কায়সার, কুমিল্লা
কুমিল্লা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠ কার্যত ফাঁকা হয়ে গেছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ সর্বশেষ আপিল শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এই রায়ের ফলে কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে আর কোনো ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থী রইলো না বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই এখন নিশ্চিতভাবে মনে করছেন—আগামী জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের প্রতিনিধিত্ব করবেন হাসনাত আবদুল্লাহ। বাজার, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে।
আদালতের রায়ের পরপরই হাসনাত আবদুল্লাহ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক প্রতিক্রিয়ায় লেখেন,
“বাংলাদেশের জনগণ বনাম ব্যাংক ডাকাত ও ঋণখেলাপিদের ফাইটে বাংলাদেশের জনগণের বিজয় হয়েছে।”
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপি অধ্যুষিত এই আসনে দলটির কয়েক লক্ষ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট দিয়ে পছন্দের প্রার্থী নির্বাচনের যে আকাঙ্ক্ষা লালন করছিলেন, আদালতের এই রায়ের ফলে সেই ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান- এ পরিস্থিতির জন্য সরাসরি দলীয় মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকেই দায়ী করছেন। তাদের মতে, ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রার্থী হওয়ায় পুরো আসনের বিএনপি কর্মী-সমর্থকরা আজ রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সব মিলিয়ে আদালতের রায়ের পর কুমিল্লা-৪ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন চোখ কেবল নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে—যেখানে হাসনাত আবদুল্লাহর বিজয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।