ফেনীতে কিশোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা ও সাথী গুরুতর আহত

নিজস্ব সংবাদদাতা:

ফেনী শহরের নাজির রোড এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই কিশোরের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে মাসুদ হাসান (১৮) নামে এক তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ইফরান হোসেন ইয়াফি (১৯) বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই অভিযুক্তকে রক্তমাখা অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামের এমরান হোসেন ওরফে মারুফ (২০) এবং বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রাইমান ইসলাম রায়াত (১৮)।

​সূত্র জানায়, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটের সময় ফেনী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাজির রোড টিকটক গলির মুখে নূর নাহার মঞ্জিলের সামনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। মামলার ১ নম্বর অভিযুক্ত মারুফ তার পকেটে থাকা ধারালো ছোরা দিয়ে কুমিল্লার তিতাস থেকে আসা মাসুদ হাসানকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে মাসুদের গলায়, পেটে ও পিঠে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়। একই সময় ২ নম্বর অভিযুক্ত রায়াত তার কাছে থাকা বটি দিয়ে ইফরান হোসেন ইয়াফিকে লক্ষ্য করে কোপ মারলে তার ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন অংশ জখম হয়।

​ঘটনাস্থলে ভিকটিমদের আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। উপস্থিত জনতা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুদ হাসানকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, ইয়াফির অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।

​এই ঘটনায় নিহত মাসুদের মা সুমি আক্তার বাদী হয়ে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-৬৪/৬৪) দায়ের করেন। মামলার এজাহারে দণ্ডবিধির ৩০২, ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৪ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পরপরই তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ওয়ালি উল্যাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযানে নামে। ৩১ জানুয়ারি রাত ৩টা ১০ মিনিটের সময় নাজির রোড এলাকা থেকে রায়াতকে এবং সকাল ৮টা ১০ মিনিটের সময় ট্রাংক রোড এলাকা থেকে মারুফকে আটক করা হয়।

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা ঘটনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এর মধ্যে রাইমান ইসলাম রায়াত বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেছেন। পুলিশ তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছোরা, একটি বটি দা এবং এক জোড়া রক্তমাখা প্লাস্টিকের জুতা উদ্ধার করেছে। আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ