মণিরামপুর (যশোর) সংবাদদাতা।।
যশোরের মণিরামপুরের পল্লীতে গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় শফিকুল ইসলাম (৫৪) নামের এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে উপজেলার চালুয়াহাটি ইউনিয়নের ইছালী গ্রামের মাঠ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সে উপজেলার ইছালী গ্রামের কেতাব উদ্দিন মোড়লের ছেলে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে শফিকুল ইসলামের মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা-তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের স্বজনরা এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা বলে মনে করছেন।
তাঁরা জানান, শফিকুল ইসলামের মাঠে একটি বৈদ্যুতিক সেচযন্ত্র রয়েছে। প্রতিদিনের মতো এদিন ভোরে তিনি সেচপাম্প চালু করতে মাঠে যান। পরে মাঠে কাজ করতে আসা কয়েকজন কৃষক পাশের বাগানে একটি কাঁঠাল গাছের সঙ্গে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে বাড়িতে খবর দেন।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে আরও জানাযায়, শফিকুল ইসলামের স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁর ছেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত। পারিবারিক কোনো অশান্তি ছিল না। তবে জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার অন্য সেচযন্ত্রের মালিকদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরেই শফিকুলকে হত্যা করে মরদেহ মাঠের পাশে আব্দুল বারিক মোড়লের কাঁঠালগাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
নিহত ছেলে সেনা সদস্য রিফাত ইফতেখার বলেন, প্রতিদিন ফজরের নামাজের আগে তাঁর বাবা মাঠে গিয়ে সেচযন্ত্র চালু করে আসতেন।
এরপর নামাজ শেষে আবার মাঠে কাজ করতেন। আজ ভোরেও তিনি মাকে জানিয়ে মাঠে যান এবং নামাজের পর জমিতে কীটনাশক ছিটাবেন বলে বের হন। কিন্তু তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। সকালে খবর আসে, বাগানে গাছের সঙ্গে তাঁর মরদেহ ঝুলছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রজিউল্লাহ খান বলেন, ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।