মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় ছিনতাইকারীদের হামলায় সমীর কুমার দাস ওরফে সুমিত (২৯) নামের এক অটোরিকশা চালক নিহত হয়েছেন। গত ১২ জানুয়ারি, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ করিমপুর এলাকা থেকে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত সুমিত মাতুভূঞা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রামানন্দপুর গ্রামের ফাজিলের ঘাট জেলে বাড়ির কার্তিক কুমার দাসের ছেলে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি, রবিবার রাত ৮টার দিকে একটি ফোনকল পেয়ে ভাড়ার উদ্দেশ্যে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন সুমিত। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি বাড়িতে ফিরে আসেননি। দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ না পেয়ে আত্মীয়-স্বজনরা সম্ভাব্য সকল স্থানে অনুসন্ধান চালান। পরবর্তীতে ১২ জানুয়ারি দক্ষিণ করিমপুর গ্রামের কালাপুল থেকে সরকারি খাদ্য গুদামগামী পাকা রাস্তার পাশে একটি নিচু জমিতে স্থানীয়রা তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহের মাথা, মুখ ও বুকে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
নিহতের মা রিনা রানী দাস জানান, রবিবার রাতে এক ব্যক্তি ফোন করে ভাড়ার কথা বলে সুমিতকে ঘর থেকে ডেকে নেন। সে সময় সুমিতের বাবা পেটের পীড়ায় ভুগছিলেন এবং ছেলের ফেরার পথে ঔষধ আনার কথা ছিল। কিন্তু রাত গভীর হলেও সুমিত না ফেরায় এবং ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের সন্দেহ বাড়ে। পরবর্তীতে হাসপাতালের মর্গে গিয়ে ছেলের ক্ষতবিক্ষত নিথর দেহ শনাক্ত করেন স্বজনরা। ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই অপরাধীরা তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে।
এ নির্মম হত্যাকাণ্ডে দাগনভূঞার মাতুভূঞা ইউনিয়নের জেলে পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উপার্জক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে নিহতের বাবা-মা, স্ত্রী ও শিশুকন্যা এখন দিশেহারা। সুমিতের শিশুসন্তানটি এখনো বুঝতে পারছে না তার বাবার কী হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার সংগ্রামে এই এলাকার নারী-পুরুষ সবাই কঠোর পরিশ্রমী, এমন নিরীহ চালককে হত্যার ঘটনায় তারা আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ।
দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা কার্তিক কুমার দাস বাদী হয়ে ১২ জানুয়ারি পেনাল কোডের ৩৯৪ ও ৩০২ ধারায় দাগনভূঞা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-০৮)। মামলায় অজ্ঞাতনামা অপরাধীদের আসামি করা হয়েছে।