*
*এম.পলাশ শরীফ, নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাগেরহাটের তরুণ লেখক, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট কবি মোঃ নিজাম গাজী দীর্ঘদিন যাবৎ চরম অর্থকষ্টে চিকিৎসাহীনতায় ভুগছেন। বর্তমানে তার সমস্ত শরীরে পঁচন ধরেছে। বিচ্ছিন্ন ভাবে খুলনা, বাগেরহাট সহ বিভিন্ন স্থান থেকে চিকিৎসা করালেও তার পঁচন রোগ ভালো হয়নি, ক্রমে বেড়েই চলছে দিনদিন। এছাড়া সে দীর্ঘ বছর যাবৎ *সোমাটোফর্ম ডিসঅর্ডার নামক জটিল মানসিক রোগ* সহ নানাবিধ শারীরিক রোগেও আক্রান্ত।
সে পাকস্থলী জনিত আইবিএস সমস্যা, কিডনি জনিত সমস্যা এবং কোমরের ব্যাথায়ও আক্রান্ত। এরই মধ্যে জেঁকে বসেছে পঁচন রোগ, যা কেউ কেউ স্ক্যাবিস, মেলানোমা রোগ হিসেবেও শনাক্ত করেছেন। বর্তমানে সে সয্যাশায়ী। মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে বৈবাহিক জীবনে ও কোনো কর্মে প্রবেশ করতে পারেনি এই উচ্চ শিক্ষিত মেধাবী লেখক। বরং কবি ২০১৮ সালে অনার্স পাশ করে অসুস্থতার কারণে আর মাস্টার্স সম্পন্ন করতে পারেনি।
একটা সময় তার লেখা কলাম ও কবিতা বাংলাদেশের দৈনিক জাতীয় সংবাদপত্র প্রথম আলো, ইত্তেফাক, ইনকিলাব, কালের কন্ঠ, সমকাল, নয়াদিগন্ত, যুগান্তর, আলোকিত বাংলাদেশ ও মানবকন্ঠ সহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া সে দক্ষিণাঞ্চল সমাচার ও দক্ষিণাঞ্চল টোয়েন্টিফোর ডটকমেও বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। অবশ্য অসুস্থতার কারণে তার যাবতীয় লেখালেখি বন্ধ।
এ বিষয়ে অসুস্থ এই কবি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন- "আমি দীর্ঘ বছর শারীরিক ও মানসিক ভাবে অসুস্থ। মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট, পিরোজপুর, খুলনা ও ঢাকাতে অন্তত শতাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখালেও সুস্থতা ফিরে পাইনি। বিগত সরকারের সময় জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সহ বহু অধিদপ্তর, পরিদপ্তর সহ অনেক এনজিও সংস্থার নিকটও আমি চিকিৎসা চেয়ে কোনোরুপ সাড়া পাইনি। এছাড়া আমি তৎকালীন সরকারের সময় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নিকট বারংবার আমার অসুস্থতা ও আশঙ্কার কথা জানিয়ে চিকিৎসা চেয়ে আবেদন করলেও তারা আমার চিকিৎসার বিষয়ে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
অথচ আমি আমার ৩২ বছরের জীবনের প্রায় অর্ধেক সময় অসুস্থতা নিয়েও রাষ্ট্র ও সমাজের নানা অসঙ্গতি নিয়ে জনগনের কল্যাণের নিমিত্তে সর্বপ্রকার স্বার্থকে উপেক্ষা করে পারিশ্রমিক ব্যতীরেকেই নিয়মিত লিখেছি। মানুষের কল্যানের জন্য আমার যে কলম ছিল অবিরত, সেই কলম আজ কেবলমাত্র অসুস্থতা ও নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার কারণে থমকে গেছে। আজ আমি অসার হয়ে পরে আছি আমার রচিত কবিতা "অপেক্ষা" এর শেষ পঙক্তি- হয়তো এই অপেক্ষা মৃত্যুর.... মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার অশেষ রহমতে আমি আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি। মুলত এখন আমার কি করা উচিত, কি করণীয় বা কি বর্জনীয় এই বিষয়টি আমি বুঝতে পারছি না। আমার পাশে কেউ নেই। মনেহয় যেনো কোথাও কেউ নেই!"
উল্লেখ্য তার মা-বাবা বৃদ্ধ ও অসুস্থ। এছাড়া দীর্ঘ বছর তার চিকিৎসা করাতে করাতে তার পরিবার একপ্রকার পথে বসেছে। ফলে তাকে চিকিৎসা করানোর মত কেউ নেই। এমতাবস্থায় সে মানবিক লোকদের নিকট, সমাজের ধনবান বিবেক সম্পন্ন লোকদের নিকট ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের নিকট চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সহযোগিতা কামনা করেছেন।