
জসীমউদ্দীন ইতি
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়ায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ সহোদরের বসতবাড়িসহ অন্তত ২০টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার ১৪নং রাজাগাঁও ইউনিয়নের উত্তর বঠিনা রাজারামপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে গবাদিপশু, খাদ্যশস্য ও নগদ অর্থসহ প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তর বঠিনা রাজারামপুর এলাকার পশির উদ্দিনের পাঁচ ছেলে জহিরুল ইসলাম, ফারুক হোসেন, কাজল ইসলাম, মোতাহার হোসেন এবং আবুল হোসেনের বসতবাড়িতে এই আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে জহিরুল ইসলামের চুলাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবারের সদস্যরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন একে একে পাঁচটি বাড়ির ২০টি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আটোয়ারী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তার আগেই বসতঘরের আসবাবপত্র, মজুতকৃত ধান-চাল, নগদ অর্থ ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ সবকিছু ভস্মীভূত হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানায়, আগুনে বেশ কিছু গৃহপালিত গরু ও ছাগল পুড়ে মারা গেছে।
সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ৩০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে তাদের দাবি। বর্তমানে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন পাঁচটি পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা আক্ষেপ করে জানান, রুহিয়া থানাধীন ইউনিয়নগুলো থেকে ঠাকুরগাঁও বা আটোয়ারী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দূরত্ব ১৪ থেকে ১৮ কিলোমিটার। দীর্ঘ দূরত্বের কারণে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই সব পুড়ে কয়লা হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলায় রুহিয়ায় স্থায়ীভাবে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।