
মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।
ফেনী জেলা পুলিশের পরিচালিত বিশেষ অভিযান ‘ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’-এর আওতায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার (১৭ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ফেনী মডেল, দাগনভূঞা ও পরশুরাম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে এই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং তালিকাভুক্ত ও সন্দেহভাজন অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে এই বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় জেলার তিনটি থানার পুলিশ সদস্যরা একযোগে বিভিন্ন স্থানে হানা দেয়।
অভিযানে ফেনী মডেল থানা পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপরতা দেখিয়েছে। তাদের জালে ধরা পড়েছেন পাঁচজন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ফুলগাজীর পশ্চিম বসন্তপুর গ্রামের মাহমুদুল হক লিমন, দাগনভূঞার পশ্চিম চন্ডিপুর গ্রামের মো. ইস্রাফিল আজম আসিফ, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার মির্জাকোট গ্রামের মো. শরীফুল ইসলাম, হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার কুমড়ী গ্রামের মো. আল আমিন এবং ফেনী সদরের ছনুয়া গ্রামের মো. নুর হোসেন রিয়াজ।
দাগনভূঞা থানা পুলিশও তাদের থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই তালিকায় রয়েছেন ফেনী সদরের রুহিতিয়া গ্রামের রাকিবুল হাসান, দাগনভূঞার কেরোনিয়া গ্রামের খাজা আহাম্মদ, দক্ষিণ করিমপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম ও তাজুল ইসলাম। এছাড়া পশ্চিম চন্ডিপুর গ্রামের মো. ইস্রাফিল আজম আসিফকেও এই থানার অভিযানের আওতায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে, পরশুরাম থানা পুলিশ দক্ষিণ কোলাপাড়া গ্রামের এনাম হোসেন ও রতনপুর গ্রামের শফিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ নির্মূলে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।