
মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।
ফেনী জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নজিরবিহীনভাবে জোরদার করা হয়েছে। গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সকাল থেকেই ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) এবং পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে কঠোর নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করেছে। মূলত অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমান্ত অপরাধ এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে সীমান্ত অতিক্রমের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করতেই এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন করেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত দলগুলো শুধুমাত্র টহলেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং সন্দেহভাজন স্থানগুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে প্রতিটি যানবাহন ও পথচারীকে তল্লাশি করছে। অপরাধীরা যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত গলে পালাতে না পারে বা কোনো ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই এই যৌথ মহড়া চলছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে জেলার বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর স্থানে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। বিশেষ করে জোরারগঞ্জ থানার হাবিলদার বাসা এলাকা এবং পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন রাস্তায় কড়া পাহারা বসানো হয়েছে। এ ছাড়া পরশুরামের আলাউদ্দিন চৌধুরী নাসিম কলেজ এলাকাতেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। অন্যদিকে, ছাগলনাইয়া উপজেলার জিরো পয়েন্ট ও শুভপুর ব্রিজ এলাকা—যা যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—সেখানেও দিনরাত তল্লাশি চলছে। ফুলগাজী উপজেলার আমজাদের হাট এলাকাতেও অনুরূপ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তে যে কোনো ধরনের অপরাধ দমনে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছেন। ৪ বিজিবির অধিনায়কের নির্দেশনায় পরিচালিত এই অভিযানে সীমান্তে নিয়মবহির্ভূত চলাচল রোধে বাহিনীগুলো সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় নাগরিকদের সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক কোনো তৎপরতা নজরে এলে বা অপরাধ সংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবি ও পুলিশকে জানিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।