
জসীমউদ্দীন ইতি , ঠাকুরগাঁও
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে খামার ঈদগাহ দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি উৎসাহ–উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গঠন হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত সোমবার সকালে মাদ্রাসা কমিটি গঠনের অনুসন্ধান করতে গেলে কমিটি গঠনের সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে কমিটি গঠন করা হয়।
মাদ্রাসা সুপার মামুনুর রশীদ ও হরিপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রায়হানুল ইসলাম মিঞাসহ প্রভাবশালী একটি মহল গোপন ভাবে পকেট কমিটি গঠন করেন।
এমন অভিযোগ লিখিত ভাবে পাওয়া গেছে হোয়াটসঅ্যাপে যা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ কয়েকটি দপ্তরে প্রেরণ করা হয়।
অভিযোগ সূত্রে দৈনিক শিক্ষা ডটকম অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, চলতি মাসের ২৩ তারিখে প্রিজাইডিং অফিসারের জন্য আবেদন করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। আবেদনের পরের দিন ২৪ তারিখে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রায়হানুল ইসলাম মিঞাকে লিখিত ভাবে উপজেলা সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র বর্মণ নিয়োগ দিয়ে কার্য সম্পাদনের অনুমতি দিয়েছেন যা সম্পূর্ণ বিধিমালা অনুসরণ করে।
নির্বাচনী তফসিল অনুসারেই কমিটি গঠনের সব কাজ স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিক ভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনী তফসিল মোতাবেক ২৫–২৬–২৭ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমা ও উত্তোলনের সময় নির্ধারিত ছিল।
৩০ নভেম্বর যাচাই–বাছাই শেষে ১ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয় ।
এতে সাধারণ অভিভাবক সদস্য আব্দুল জব্বার এবতেদায়ী স্তর, মোঃ আমিনুল ইসলাম দাখিল স্তর, মোঃ জালাল দাখিল স্তর, মোঃ ফারুক এবতেদায়ী স্তর।
সাধারণ শিক্ষক সদস্য মনোনীত হয়, আল আমিন দাখিল স্তর ও সেলিম রেজা এবতেদায়ী স্তর ।
সংরক্ষিত মহিলা শিক্ষক সদস্য মনোনীত হয়, আরমানি এবং আজীবন দাতা সদস্য হয়, মোঃ ইয়াসিন আলী। এইসব তথ্য সংগ্রহ করা আছে দৈনিক শিক্ষা ডটকম এর কাছে।
শিক্ষক প্রতিনিধিসহ সব কার্যক্রম যথাযথ নিয়মে ও সকলের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সম্পন্ন হয়েছে। নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি টাঙানোর মাধ্যমে অভিভাবকেরাও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দিয়েছেন।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এলিজা ও তিশাসহ একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, শিক্ষকরা তাদের নির্বাচনের বিষয়টি অবহিত করেছিলেন এবং তারা তাদের অভিভাবকদেরও তা জানায়।
তাদের মতে, কমিটি গঠনের কাজ কোনো গোপনীয়তা ছাড়াই উৎসাহ–উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চলছে এবং কোনো অনিয়ম ঘটেনি স্থানীয় মিডিয়া কর্মীদের ভিডিও ফুটেজ দিয়েছে অত্র মাদ্রাসার সহকারী সুপার সানাউল্লাহ।
এবিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মামুনুর রশীদ দৈনিক শিক্ষা ডটকম কে বলেন, খামার মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি গঠনের দাবি জানাই এবং সঠিক নিয়ম অনুসরণ করে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আবাদি জমিগুলো সঠিক নিয়মে লিজ প্রদান করা হয়েছে যাহার সব তথ্য সংগ্রহ করা আছে এবং
সেই টাকা দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে। গাছ কাটার অভিযোগটিও মিথ্যা। গাছের কাঠ দিয়ে মাদ্রাসার বিভিন্ন আসবাবপত্র তৈরি করা হয়েছে তার প্রমাণ আছে । আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।
জানা যায়, মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে একটি মহল স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করছে।
সাবেক শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত যা অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষর্ন্ন করা চেষ্টা হচ্ছে।
অভিযোগকারীরা প্রকৃত অভিভাবক নন।
তাই এই সব অসত্য অভিযোগ কারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান তাঁরা।