
মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক বিশাল যুব সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেল ৩টায় সিলোনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই সমাবেশে বক্তারা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন যে, দেশে আর রাতের অন্ধকারে ভোট চুরির সুযোগ দেওয়া হবে না। সমাবেশে প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়, যা স্থানীয় রাজনীতির মাঠকে নতুন করে সরগরম করে তুলেছে।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফেনী জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুল হান্নান কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, অতীতে নির্বাচনের নামে যে প্রহসন হয়েছে, আগামীতে তার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য প্রস্তুত এবং রাতের ভোট আর কখনো হবে না। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মেজবাহ উদ্দিন সাঈদ ভোটের মাঠের কৌশল পরিষ্কার করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী ভোট কেন্দ্র দখলের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়, বরং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় তারা ভোট কেন্দ্র পাহারা দেবে।
সমাবেশে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন বক্তারা। যুব বিভাগের সভাপতি ও সমাবেশের সঞ্চালক ফখরুল ইসলাম মামুন বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে রাজনৈতিক দলগুলো যুবসমাজকে কেবল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। এবার সময় এসেছে সেই ধারা ভেঙে ফেলার। যুবসমাজই বর্তমান ঘুণে ধরা সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন করে নতুন ধারা প্রবর্তন করবে। ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও প্রধান আলোচক ডা. ফখরুদ্দিন মানিক তাঁর বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করেন এবং আপোষহীন নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৮নং জায়লস্কর ইউনিয়ন আমীর ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা সাইফুল ইসলাম। তিনি বিশাল জনসমাগমের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, হাজার হাজার মানুষের এই উপস্থিতিই প্রমাণ করে আগামীতে দেশের ক্ষমতার কারা আসীন হতে যাচ্ছে। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন দাগনভূঞা উপজেলার আমীর ও ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা গাজী ছালেহ উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি সবার স্থান থেকে শুরু হয়ে সিলোনিয়া বাজার প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি হীরা সুইটস-এর সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলেন এবং স্থানীয় রাজপথে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির জানান দেন। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে এবং স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি সমাপ্ত হয়।