ফেনীতে হুমকি দিয়ে মৎস্য প্রজেক্টে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ

এম.নিজাম উদ্দীন মজুমদার সজিবঃ

ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের নৈরাজপুর গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে একটি মৎস্য খামারে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ২৫ লাখ টাকার মাছ নিধন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৩০ নভেম্বর ভোরে খামারের মালিক মো. বাহার প্রজেক্টে গিয়ে মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখেন। এর আগে ২৯ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে এই বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

​স্থানীয় সূত্রে ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, নৈরাজপুর গ্রামের হাবিবুল্লাহর ছেলে মো. বাহার (৪১) গত এক বছর ধরে আট একর জায়গা জুড়ে একটি মৎস্য খামার পরিচালনা করে আসছিলেন। খামারটিতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২৫ লাখ টাকার মাছ ছিল। এই খামারের পাশেই বিবাদী নুরুল আমিন (৪৫) ও টিপু (৪৫) জনৈক ফোরকান চৌধুরীর আরেকটি প্রজেক্ট পরিচালনা করেন। সীমানা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে ২৯ নভেম্বর বিকেলে বাদী ও বিবাদীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বিবাদীরা প্রকাশ্যে হুমকি দেয় যে, বাহার কীভাবে মাছ চাষ করে তা তারা দেখে নেবে এবং প্রজেক্টে বিষ প্রয়োগ করে মাছ মেরে ফেলবে। এমনকি খামারের কর্মচারীদেরও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

​খামারের দায়িত্বে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২৯ নভেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বিবাদী নুরুল আমিনসহ অজ্ঞাতনামা ৪-৫ জন ব্যক্তিকে প্রজেক্টের আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। সে সময় ১ নম্বর বিবাদী নুরুল আমিনের হাতে একটি প্লাস্টিকের বোতল ছিল, যা বিষের বোতল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ৩০ নভেম্বর ভোরে খামারে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল এলাকা জুড়ে মরা মাছ ভেসে উঠছে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রজেক্টের মালিক বাহার।

​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. বাহার বাদী হয়ে নুরুল আমিন ও টিপুসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করে ফেনী সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ন্যাক্কারজনক এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।

এ রকম আরো সংবাদ

আমাদের সাথে থাকুন

0FansLike
0SubscribersSubscribe

সর্বশেষ সংবাদ