
এস কে আলীম,কপিলমুনি খুলনা।
মিথ্যা মামলায় কারাভোগকারী শারীরিক, মানসিকসহ বিভিন্নভাবে হয়রানীর শিকার ৭৪ বছরের অসহায় বৃদ্ধ মোঃ মনছুর আলী গাজী কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবে সোমবার দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
তিনি দীর্ঘদিনের ষড়যন্ত্রের ফাঁদ থেকে পরিত্রান পেতে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনের আয়োজক কপিলমুনির কাশিমনগর গ্রামের মৃতঃ ইমানী আলী গাজীর ছেলে মোঃ মুনছুর আলী গাজী তার বক্তব্যে বলেন, অন্যের বৈদ্যুতিক মিটারের তারে শর্ট খেয়ে আহত হয়ে আমাকে দায়ী করে আমার বিরুদ্ধে আলম গাজী মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছে।
প্রকৃত ঘটনা হলো ১/৪/২৫ তারিখ কাবুল মোড়লের জমিতে বৈদ্যুতিক মিটার সংযুক্ত বোরিং ঘরে আমার বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলার বাদী একই এলাকার আলম গাজীর পিতা হারুন গাজী বৈদ্যুতিক শর্টে আহত হয়। উক্ত ঘটনার আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই, এমনকি শর্ট হওয়া তারের মিঠারও আমার নয়, অথচ ওই ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে মামলা করে।
আমার নামে একটি মিটার পূর্বে থাকলেও ২৫/১/২৪ তারিখে পাইকগাছা বিদ্যুৎ অফিসে জমা দিই। তাছাড়া উল্লেখিত স্থানে কোন ঘর নেই,পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমাকে হেওপ্রতিপন্ন ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ৩/৪/২৫ তারিখে আমার নামে উক্ত মামলা দায়ের করে, যার নম্বর জিআর ৬১/২৫। ৬/৪/২৫ বাদীপক্ষ আমাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে শারীরিকভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
আমি দীর্ঘ ৪৫ দিন কারাভোগের পর শর্তসাপেক্ষে জামিন পাই।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরো বলেন, ১১/৮/২৫ তারিখ রাত আনুমানিক ৮,টার সময় কাশিমনগর বাইতুন মোবারক জামে মসজিদের সামনে আলম গাজী ও তার মা নিলুফা বেগমসহ অজ্ঞাত আরো কয়েকজন মিলে এলোপাতাড়ি মারধর এবং নিলুফা বেগম আমার পায়ে দা দিয়ে কোপ দেয়, এতে আমি মারাত্মক জখম হই।
এ সময় আমার কাছে ব্যাগে থাকা জায়গা-জমির গুরুত্বপূর্ণ কাগজসহ ২৫ হাজার টাকা তারা ছিনিয়ে নেয়। এরপর মুমূর্ষ অবস্থায় আমার বাড়ির লোকজন আমাকে তালা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এখানেই শেষ নয়, আমি চিকিৎসা শেষে বাড়ি আসলে বাদী আলম গাজী পুনরায় ২৫/৮/২৫ তারিখ ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার সময় পিছন থেকে আমার মাথায় অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়, স্থানীয়দের সহায়তায় পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হই।
এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার মাথায় পাঁচটি সেলাই দেন এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। ০২/০৯/২৫ তারিখে পাইকগাছা থানায় মামলা করতে গেলে থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত ওসি মামলা গ্রহণ করেননি, ফলে আমি ন্যায় বিচার পাইনি। এর আগে আমার বিরুদ্ধে হওয়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কপিলমুনি ফাঁড়ির কর্মরত এস আই সবুর তদন্ত করে নিরপেক্ষ রিপোর্ট দেওয়ার জন্য আমার কাছ থেকে ২ দফায় ১২ হাজার টাকা নেন।
কিন্তু এতগুলো টাকা নিয়েও তিনি বাদীর পক্ষে একটি প্রশ্নবিদ্ধ চার্জশিট প্রদান করেন। যার ফলশ্রুতিতে আমি ৩/৯/২৫ তারিখে আদালতে হাজিরা দিলে আদালত আমার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। ২ মাস ৬ দিন পর আমি জামিন পাই।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক মোঃ মুনছুর আলী গাজী আরো বলেন, এই হলো আমাকে দীর্ঘ দিনধরে হয়রানী করার ফিরিস্তি। আমি উক্ত মিথ্যা মামলা থেকে আমাকে অব্যাহতি প্রদান পূর্বক সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।