
মোহাম্মদ আবু দারদা, ফেনী।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফেনী-৩ আসনের ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, দেশের জনগণ একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। যদি নির্বাচন নিয়ে কোনো প্রকার গড়িমসি করা হয়, তবে তার যথোপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর ২০২৫) বিকেলে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার কোরাইশ মুন্সি বাজারে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গত ১৬ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ব্যক্তিগত বঞ্চনার কথা তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টু আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের সময়ে তিনি বাবা-মায়ের কবর পর্যন্ত জিয়ারত করতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তার প্রতিষ্ঠিত দুলা মিয়া কটন মিলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং তার স্থাপিত ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজের সামনে গাড়ি ভাঙচুরসহ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। গায়েবি মামলা দিয়ে তাকে দীর্ঘদিন হেনস্তা করা হয়েছে এবং এলাকায় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হয়নি। শুক্রবার জুমার নামাজের পর দাগনভূঞা পৌরসভার আলাইয়াপুরে পিতা-মাতার কবর জিয়ারত শেষে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।
দাগনভূঞা উপজেলার কোরাইশ মুন্সি বাজারে অনুষ্ঠিত পথসভায় মিন্টু আগামী দিনের সরকার গঠন ও দলীয় অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তারা জাতিকে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবে। একইসঙ্গে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে তিনি কঠোর বার্তা দেন। এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও উৎকোচ গ্রহণের সঙ্গে জড়িতদের সাবধান করে তিনি বলেন, বিএনপিতে কোনো অপরাধী বা উৎকোচ গ্রহণকারীর ঠাঁই হবে না এবং তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী হলে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নে সর্বাত্মক কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে এদিন আবদুল আউয়াল মিন্টু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক কেন্দ্রীয় আমির মরহুম মকবুল আহমদের কবর জিয়ারত করেন। শুক্রবার প্রচারণাকালে তিনি পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়নের ওমরাবাদ গ্রামে আমিন বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে যান এবং মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া করেন। উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক এই শীর্ষ নেতা ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল করোনা মহামারির সময়ে ইন্তেকাল করেন। বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতার জামায়াত আমিরের কবর জিয়ারতকে স্থানীয় রাজনীতিতে জোটগত সম্পর্কের ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
দিনব্যাপী এই গণসংযোগে আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট শাহেনা আক্তার শানুসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। রাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব আবু নাসেরের সঞ্চালনায় পথসভায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। এর আগে বৈরাগীরহাট, গজারিয়া, রাজাপুর বাজার ও দরবেশের হাটেও পৃথক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আবদুল আউয়াল মিন্টুর গাড়িবহরকে স্বাগত জানান এবং স্লোগানে এলাকা মুখর করে তোলেন।